আমরা অনেকেই চাই পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে, যেন সবাই আমাদের 'ভালো ছাত্র' বা 'ভালো ছাত্রী' হিসেবে চেনে । কিন্তু বাস্তবে অনেক সময়ই তা হয়ে ওঠে না। তবে আপনি যদি আগামী তিন মাস কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম এবং নিজের কাজের প্রতি সৎ থেকে একটি রুটিন মেনে চলতে পারেন, তবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া অবশ্যই সম্ভব । এটি কোনো জাদুর কাঠি নয়, বরং নিজের পরিচয় বদলানোর এক দারুণ যাত্রা ।
চলুন জেনে নিই সেই জাদুকরী ৫টি ধাপ:
১. নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক মাইন্ডসেট বদলে ফেলুন আমাদের সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিজেদের সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা। ছোটবেলায় হয়তো কেউ বলেছিল, "তুমি অঙ্কে দুর্বল", আর আমরা সেটাই সারাজীবন বিশ্বাস করে আসছি । এই সীমাবদ্ধতা থেকে সবার আগে বেরিয়ে আসতে হবে । একবার ভাবুন তো, ড. শাওনের সেই দুই বন্ধুর কথা, যারা অষ্টম শ্রেণিতে খারাপ রেজাল্টের কারণে বিজ্ঞান বাদ দিয়ে মানবিক শাখায় পড়তে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু তারা হাল ছাড়েনি, জেদ করে সায়েন্সে ফিরে আসে এবং পরবর্তীতে বুয়েট থেকে পাস করে আমেরিকায় পিএইচডি পর্যন্ত সম্পন্ন করেছে! তারা পারলে আপনি কেন পারবেন না?
২. অভিযোগ করা বন্ধ করুন এবং কাজে নামুন আমরা অনেক সময় আমাদের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক বা চারপাশের পরিবেশকে দোষারোপ করি, যেগুলো আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই অভ্যাস আজই বাদ দিন। যেসব বিষয় আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, তা নিয়ে অভিযোগ না করে বরং নিজের আয়ত্তে থাকা বিষয়গুলোতে, অর্থাৎ নিজের পড়াশোনায় ফোকাস করুন ।
৩. কাজে লাগান ৮০/২০ নীতি (Pareto Principle) আপনি যদি পড়াশোনায় অনেকদিন পিছিয়ে থাকেন, তবে প্রথমেই ১০০% সিলেবাস শেষ করার চাপ নেবেন না । বরং যেকোনো বিষয়ের মূল ২০% 'বেসিক' পড়ার দিকে মনোযোগ দিন, যা দিয়ে আপনি আপনার সিলেবাসের ৮০% কভার করতে পারবেন । আর হ্যাঁ, এই সময়ে ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্রটির সাথে নিজের তুলনা করতে যাবেন না; এতে শুধু হতাশাই বাড়বে । আগে নিজের বেসিক বা ভিত্তি মজবুত করুন, তারপর ধীরে ধীরে পরিসর বাড়ান ।
৪. চেয়ারে বসার অভ্যাস এবং ধারাবাহিকতা অনেকদিন পড়ার অভ্যাস না থাকলে প্রথমেই মনোযোগ বসবে না। তাই প্রথম এক সপ্তাহ আপনার মূল কাজ হবে শুধু পড়ার টেবিলে চেয়ারে বসে থাকার প্র্যাকটিস করা ! একটানা না পড়ে ১৫ বা ২৫ মিনিট পড়াশোনা করে ৫ মিনিটের ছোট ব্রেক নিতে পারেন । এতে মস্তিষ্ক চাপমুক্ত থাকে এবং পড়ার রুটিনটা ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়।
৫. ডিস্ট্রাকশন এবং নেতিবাচক মানুষদের দূরে রাখুন পড়াশোনার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ডিস্ট্রাকশন। পড়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়ার নোটিফিকেশন বা ফোন সম্পূর্ণ সাইলেন্ট করে দূরে রাখুন । সেই সাথে আরেক ধরনের ডিস্ট্রাকশন হলো 'নেতিবাচক মানুষ'। যেসব বন্ধু বা আত্মীয় সব সময় নিরুৎসাহিত করে বলে, "তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না" বা "তিন মাস পড়ে আর কী এমন উল্টে ফেলবি", তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। কারণ তারা আপনার মহামূল্যবান এনার্জি নষ্ট করে দেয়।
ধৈর্য ধরুন এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো ধৈর্য । তিন মাসের এই জার্নিতে আপনি রাতারাতি পরিবর্তন দেখবেন না। তবে আপনি যদি লেগে থাকেন, তবে এটি শুধু একটি ভালো রেজাল্ট নয়, বরং আপনার পুরো ব্যক্তিত্ব বা পরিচয়ের এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
আজ থেকেই শুরু হোক আপনার কামব্যাক! আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

Comments
Post a Comment